কাপাসিয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা
কাপাসিয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ডুমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, গায়ে হাত দেওয়া ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
অভিযোগকারী ছাত্রী মনিরার অভিভাবকদের দাবি, মনিরার মা প্রবাসে থাকায় তার খালা তাকে দেখাশোনা করেন। ঘটনার পর মনিরা বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরে তার কাছ থেকে ঘটনার বিষয়টি জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মনিরার ভাই অভিযোগ করে বলেন, প্রাইভেট পড়ানোর অজুহাতে শিক্ষার্থীদের আলাদা কক্ষে ডেকে নিয়ে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রোল নম্বর এগিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ডুমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষক আবুল হোসেন প্রাইভেট পড়ানোর সময় এক ছাত্রীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বসে আলোচনা করেছি। শিক্ষক তার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। এ ঘটনায় তাকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আশিকের বিরুদ্ধে সভাপতির কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগও উঠেছে।
তবে অভিযোগটি অস্বীকার করে আশিক বলেন, “আমি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিচার দাবি করায় উল্টো আমার বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, “আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এভাবে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার’ অপচেষ্টা না করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোক্তার উদ্দিন বলেন, “গত সোমবার ঘটনার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাই। বুধবার মনিরার পক্ষ থেকেও একটি অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে সভাপতিকে অবহিত করে বুধবার বিকেল ৩টায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় রেজুলেশন করে অভিযুক্ত শিক্ষককে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ সরকার জানান, ডুমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























মন্তব্য: