শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬

কলমায় খোলা আকাশের নিচে মাদ্রাসার পাঠদান নির্মাণকাজে বাধার অভিযোগ, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

14 May, 2026 11:40:00
কলমায় খোলা আকাশের নিচে মাদ্রাসার পাঠদান নির্মাণকাজে বাধার অভিযোগ, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

আপন সরদার, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নে খোলা আকাশের নিচে চলছে একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে খোলা স্থানে পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এতে তীব্র গরম, রোদ ও বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, “আব্দুল হালিম বিন আব্দুল মজিদ মোল্লা মহিলা মাদ্রাসা”র শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে বসে পাঠ গ্রহণ করছে। কারো হাতে বই, কেউ পাটিতে বসে লিখছে খাতা। নেই কোনো পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ কিংবা শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ। শিক্ষকরা খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে পাঠদান করছেন। এসময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝেও ক্ষোভ ও হতাশা দেখা যায়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মাদ্রাসার নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ায় ভবন নির্মাণ বন্ধ হয়ে আছে। ফলে বাধ্য হয়েই খোলা স্থানে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা সালমান বলেন, “মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল হালিম মোল্লা তার নিজ মালিকানাধীন সম্পত্তির ১৪.২১ শতাংশ জমি মাদ্রাসার নামে ওয়াকফ করে দেন। এরপর এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু জমির পাশ্ববর্তী মালিক ও হালিম মোল্লার ভাতিজা মিল্টন মোল্লা গংরা শুরু থেকেই এ মাদ্রাসার বিরোধিতা করে আসছে।”
বর্তমানে শ্রেণিকক্ষ না থাকায় বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি।”
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিল্টন মোল্লা গংরা জোরপূর্বক মাদ্রাসার নির্মাণকাজ বন্ধ করে রেখেছে। তারা বলেন, “এটি একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা পড়াশোনা করে। কিন্তু ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।”
অভিভাবকরাও দ্রুত সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন। তারা বলেন, “রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মেয়েদের পড়াশোনা করতে হচ্ছে। এতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দ্রুত মাদ্রাসার ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”
অভিযোগ অস্বীকার করে মিল্টন মোল্লা জানান, ১০ বছর আগে আমার চাচা একটি ভুয়া দলিল করে আমার দাদার ১৪০ শতাংশ জমি বিক্রি করে ফেলে। সেই সম্পত্তি থেকে আমরা ৭০ শতাংশ মালিক। এখন সে মাদ্রাসার নামে ১১ শতাংশ জমি ওয়াকফ করে দেয়। এই জায়গার মালিকও আমরাই। এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ আদালতে একটি ভাগ ভাটোয়ারা মামলাও রয়েছে।

সর্বশেষ

  • প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
  • আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় , ৩৭/৬, আজিমপুর রোড, আজিমপুর, ঢাকা-১২০৫ ইমেইল : buletin247@gmail.com, 01711977369

Developed by bditsupport