কলকাতায় মহিবুর রহমানের ‘মুর্শিদাবাদের আলোছায়া’ গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন | বিডি-প্রেস 24 ডট কম
হোম / Uncategorized / বিস্তারিত

কলকাতায় মহিবুর রহমানের ‘মুর্শিদাবাদের আলোছায়া’ গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

11 August 2026, 5:20:59

কলকাতায় মহিবুর রহমানের ‘মুর্শিদাবাদের আলোছায়া’ গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

সাহিত্য-সংস্কৃতির মিলনমেলায় মুখর লীলা রায় হল

কলকাতা প্রতিনিধি:

ইতিহাস, ঐতিহ্য, নবাবি আমলের স্মৃতি আর পলাশীর প্রান্তরের বেদনামথিত অধ্যায়—সব মিলিয়ে মুর্শিদাবাদ যেন বাংলার অতীতের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। সেই ইতিহাসের আলো-আঁধারি অধ্যায়কে তথ্য, গবেষণা ও সাহিত্যিক অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছেন কবি, সাহিত্যিক ও গবেষক মহিবুর রহমান। তাঁর তথ্যসমৃদ্ধ গ্রন্থ ‘মুর্শিদাবাদের আলোছায়া’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে কলকাতায়।

গত ৭ আগস্ট শুক্রবার কলকাতার লীলা রায় হল (৫২/৭, বিপিন বিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিট, কলকাতা-১২)-এ ‘ডাঃ বি.সি. রায় মেমোরিয়াল সোসাইটি’ ও ‘অনপেক্ষ’-এর যৌথ উদ্যোগে গ্রন্থটির উদ্বোধন করা হয়।

কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, বাচিক শিল্পী, শিক্ষক, গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী ও সাহিত্যপ্রেমীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। অতিথিদের বরণ, প্রদীপ প্রজ্বালন ও উদ্বোধনী সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক পদ্মশ্রী কাজি মাসুম আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাহিত্যিক সৈয়দ হাসমত জালাল, ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. জহর মজুমদার, কবি শ্যামল জানা এবং চিত্র পরিচালক বাদল সাহা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, কবি প্রদীপ গুপ্ত, কবি পিনাকী রায়, কবি সুদীপ্তা রায়চৌধুরী মুখার্জী, শিক্ষিকা ও কবি জাহানারা রহমানসহ সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা।

সম্মাননা প্রদান

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কৃতী ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান। এ সময় ‘ডাঃ বিধান চন্দ্র রায় স্মৃতি সম্মান-২০২৬’ প্রদান করা হয় বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক অভিজিৎ চৌধুরীকে। একই অনুষ্ঠানে ‘ডাঃ জয়নাল আবেদিন স্মৃতি সম্মান-২০২৬’-এ ভূষিত হন বিশিষ্ট কবি সৌমিত বসু।

সম্মাননা পর্বে নির্বাচিত ব্যক্তিদের ব্যাজ ও উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়ার পর তাঁদের হাতে স্মারক, সম্মাননাপত্র ও বই তুলে দেন অতিথিরা।

নজরুল-রবীন্দ্রচর্চায় মুখর আলোচনা

অনুষ্ঠানে সাহিত্যবিষয়ক আলোচনা পর্বও ছিল বিশেষ আকর্ষণীয়। প্রাবন্ধিক নীলাঞ্জন শান্ডিল্য ‘প্রেমের কবি নজরুল’ এবং কবি অদীপ ঘোষ ‘রবীন্দ্রনাথের জীবনে সমাজ ভাবনা’ বিষয়ে আলোচনা করেন।

বক্তারা বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় মুর্শিদাবাদের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, মহিবুর রহমানের ‘মুর্শিদাবাদের আলোছায়া’ কেবল একটি তথ্যনির্ভর গ্রন্থ নয়; বরং মুর্শিদাবাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিবর্তনকে জানার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকলন। বইটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও পড়ার উপযোগী এবং ভবিষ্যতে পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা রাখে বলেও তাঁরা মত দেন।

কথাসাহিত্যিক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক পদ্মশ্রী কাজি মাসুম আখতার, কবি ও সাহিত্যিক সৈয়দ হাসমত জালাল, কথাসাহিত্যিক অভিজিৎ চৌধুরী, প্রাবন্ধিক নীলাঞ্জন শান্ডিল্য, ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. জহর মজুমদার, কবি অদীপ ঘোষ ও কবি সৌমিত বসুসহ বক্তারা গ্রন্থটির প্রশংসা করেন।

‘মুর্শিদাবাদ শুধু একটি জেলা নয়’

নিজের গ্রন্থ সম্পর্কে লেখক মহিবুর রহমান বলেন, মুর্শিদাবাদ তাঁর কাছে শুধু মানচিত্রের একটি জেলা নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, আবেগ ও দীর্ঘশ্বাসের এক জীবন্ত দলিল। ভাগীরথীর তীরে গড়ে ওঠা এই জনপদের ধুলো-মাটির গভীরে যেমন নবাবি আমলের স্মৃতি লুকিয়ে আছে, তেমনি পলাশীর প্রান্তরের বেদনাবিধুর ইতিহাসের প্রতিধ্বনিও আজও সেখানে অনুভূত হয়।

লেখকের ভাষায়, ইতিহাসের সেই আলো ও ছায়ার মেলবন্ধনই তাঁর ‘মুর্শিদাবাদের আলোছায়া’ গ্রন্থের মূল উপজীব্য।

অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও ইতিহাসচর্চার পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও। বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী অঞ্জলি চৌধুরী সংগীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করেন।

পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি বিশ্বজিৎ রায় ও পর্ণালী ব্যানার্জী। সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির নিবিড় মেলবন্ধনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য:

PhotoCard Icon
Create PhotoCard