ফরহাদ হোসাইন,কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
খুলনার কয়রা উপজেলা জাতীয়তাবাদী তরুণ দলের সাধারণ সম্পাদক পদে কমিটির বাইরে থাকা এক ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে জাতীয়তাবাদী তরুণ দল খুলনা জেলা শাখা কয়রা উপজেলা শাখার ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়। এতে মো. হাসানুর ইসলাম (হাসান) সভাপতি এবং আজিজুল ইসলাম (আজু) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
সম্প্রতি শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এরপর গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে মো. আলমগীর হোসেন আলমকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, আলমগীর হোসেন উপজেলা তরুণ দলের অনুমোদিত কমিটির কোনো সদস্য নন।
এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা তরুণ দলের সভাপতি হাসানুর ইসলাম হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি জেলা নেতাদের কাছে জানার পরামর্শ দেন।
সাময়িক বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম (আজু) অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে আলমগীর আমার মাছের ঘেরও দখল করেছে। আবার জেলা নেতাদের প্রভাবিত করে আমাকে বহিষ্কার করিয়ে নিজে সংগঠনের কোনো সদস্য না হয়েও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন,যাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, তাকে আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিং ও নৌকার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়। আওয়ামী লীগের আমলে যারা আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, এখন তাদের মাধ্যমেই আবার হয়রানির শিকার হচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কেউ বিএনপির রাজনীতি করতে আগ্রহী হবে না।
এদিকে কয়রা উপজেলা তরুণ দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন,সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কৃত হলে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ নেতার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পাওয়ার কথা। সেই হিসেবে দায়িত্বটি আমার পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে দেখি আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি জানতে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আমাকে বলেন, তুমি কে যে তোমার কাছে জবাব দিতে হবে? আমাদের যা ভালো মনে হয়েছে, তাই করেছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী তরুণ দল খুলনা জেলা শাখার সভাপতি এম এম আজিজুল হাকিম বলেন, “আলমগীর ভাইকে আমাদের ভালো মনে হয়েছে। আমার মনে হয়েছে তিনি সংগঠন ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারবেন, তাই তাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিটির বাইরের একজন ব্যক্তিকে কীভাবে এ পদে আনা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,যে কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া যায়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক নেতাকর্মী।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।