ডেক্স রিপোর্ট:
শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কমরেড মিলু'র ভূমিকা নিপীড়িত জনতার পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন।
বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি এবং চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি কমরেড জাহেদুল হক মিলু'র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রবিবার (১৪ জুন ২০২৬) বিকেল ৫টায় সেগুনবাগিচাস্থ ভ্যানগার্ড মিলনায়তনে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাসদ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে এবং সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য কমরেড নিখিল দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় আলোচনা করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য আব্দুল কুদ্দুস, সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ, শম্পা বসু প্রমুখ।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড জাহেদুল হক মিলু ছিলেন বাংলাদেশের বামপন্থী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক, শ্রমিক শ্রেণীর অকৃত্রিম বন্ধু। শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন মেধাবী ও সংস্কৃতিমনা। ছাত্রজীবনে মুক্তিযুদ্ধের শোষণ-বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চেতনা ধারণ করে '৭০-এর দশকে তিনি তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার প্রতিবাদে জাসদ ছাত্রলীগে যোগ দিয়ে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে '৮০ সালে বিপ্লবী দল বাসদ গড়ে উঠলে তিনি শুরু থেকেই বাসদে যুক্ত হন এবং ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠার লোভ পরিত্যাগ করে জনগণের মুক্তির সংগ্রামকে নিজের জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। শ্রমিক আন্দোলনে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেহনতী মানুষকে সংগঠিত করা এবং তাদের লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসেবে দেশব্যাপী বিপ্লবী দল বাসদের সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় টেক্সটাইল মিল শ্রমিকদের ইউনিয়ন গড়ে তুলেন। এছাড়াও তিনি ছিলেন মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন, স-মিল শ্রমিক ইউনিয়ন, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন ও নির্মাণশ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা। তিনি শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালন করেন এবং বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (WFTU)-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখেন। তিনি ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
২০১৮ সালে সাংগঠনিক কাজে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম গিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। দীর্ঘ ৩২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২০১৮ সালের ১৩ জুন তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ কমরেড মিলু'র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেই মানুষটিকে, যিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন, সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়েই কমরেড জাহেদুল হক মিলুর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।