সোমবার ৪ মে, ২০২৬

উপবৃত্তির ফাঁদে ডেকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা! ক্ষুব্ধ জনতার গণধোলাইয়ে শিক্ষক হাসপাতালে

4 May, 2026 9:33:01
উপবৃত্তির ফাঁদে ডেকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা! ক্ষুব্ধ জনতার গণধোলাইয়ে শিক্ষক হাসপাতালে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির প্রলোভন দেখিয়ে এক ছাত্রীকে ডেকে এনে শ্লীলতাহানির চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণধোলাইয়ের পর বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষক সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক সামসুল হুদা, যিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বড়বাম গ্রামের মাওলানা আলী নওয়াবের ছেলে, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ইসহাকপুর এলাকায় অবস্থিত আল জান্নাত ইসলামিক এডুকেশন ইনস্টিটিউট কামিল মাদ্রাসায় আরবি প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার (২ মে) মাদ্রাসা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও উপবৃত্তির ফরম পূরণের কথা বলে আলিম প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে প্রতিষ্ঠানে ডেকে নেন তিনি। পরে মাদ্রাসার মিলনায়তনের নির্জন পরিবেশের সুযোগ নিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রীটি পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সব ঘটনা খুলে বলেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার দিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত সামসুল হুদার বিরুদ্ধে এর আগেও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ছিল। ২০১৫ সালে মাদ্রাসায় যোগদানের পর মোবাইল ফোনে আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে ২০১৮ সালে গভর্নিং বডির হস্তক্ষেপে তিনি পুনরায় নিয়োগ পান—যা এখন নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ঘটনার পর রোববার দুপুরে সংবাদকর্মীরা মাদ্রাসায় গিয়ে সেটি বন্ধ দেখতে পান। পরে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ শহিদুল ইসলাম নিজামী জানান, ঘটনার সময় তারা কেউ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি আরও বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত ছাড়া এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।”
এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অরুপ কুমার রায় বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও ন্যাক্কারজনক। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি একটি ট্রাস্টি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত। সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
ঘটনাটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও নৈতিকতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ

  • প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
  • আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় , ৩৭/৬, আজিমপুর রোড, আজিমপুর, ঢাকা-১২০৫ ইমেইল : buletin247@gmail.com, 01711977369

Developed by bditsupport