এইচ এম হাছনাইন, বিশেষ প্রতিনিধি:
জুলাইয়ের দ্রোহ ও জাগরণের চেতনাকে সামনে রেখে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি জুলাই আন্দোলনের সকল শহীদ, আহত এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটাভিত্তিক নিয়োগের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই জুলাইয়ের সংগ্রামের সূচনা হয়। তিনি দাবি করেন, শুরু থেকেই ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে সম্পৃক্ত ছিল এবং আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি বলেন, আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নেমে আসে। একই সময়ে ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ, গণগ্রেফতার, গুম, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৮ জুলাইকে সাংগঠনিকভাবে "জুলাই জাগরণ ও স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস" হিসেবে পালন করা হবে। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের সব ক্যাম্পাস ও জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
সংগঠনটি জুলাইয়ের দ্বিতীয় বর্ষ উপলক্ষে ২-দফা দাবি ঘোষণা করেছে। দাবিগুলো হলো—
১. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণে জুলাই জাদুঘর উন্মুক্ত করতে হবে।
এছাড়া ৭-দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—
- জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত।
- শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আহতদের সঙ্গে মতবিনিময়।
- জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে পদযাত্রা।
- দ্রোহ ও জাগরণের জুলাই স্মরণে সংলাপ ও দোয়া মাহফিল।
- শরীয়াহ অনুমোদিত গ্রাফিতি অঙ্কন ও দেয়াল লিখন।
- ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম নিয়ে দেশব্যাপী জুলাই ডকুমেন্টারি প্রদর্শন।
- জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ বিষয়ক প্রতিযোগিতা আয়োজন।
বক্তব্যে মুনতাছির আহমাদ বলেন, জুলাইয়ের চেতনা কেবল একটি আন্দোলনের স্মৃতি নয়; এটি অন্যায়, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চলমান অঙ্গীকার। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাঙ্গনে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, সহিংসতা বা দমনমূলক রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয় এবং ক্যাম্পাসকে জ্ঞানচর্চা ও মতপ্রকাশের নিরাপদ পরিবেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন ইবনে সরোয়ার, সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ ফয়জুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ ইবরাহীম খলীল, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আশিকুল ইসলাম, তথ্য-গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্পাদক মুহাম্মাদ কামরুল ইসলাম, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাইমুন ইসলাম মিঠুন, দফতর ও যোগাযোগ সম্পাদক আহমাদ শাফী, স্কুল ও কলেজ সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান, অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ শোভন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সাইফ মুহাম্মদ আলাউদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি এইচ. এম. মোস্তফা হোসাইনসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।