মাইনুল ইসলাম রাজু, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এবং আমতলীর জরাজীর্ণ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় বরগুনার আমতলী উপজেলার দশ গ্রামের মানুষের মধ্যে ¯^স্তি ফিরে এসেছে| অবরুদ্ধ ও বেহাল দশার অবসান ঘটিয়ে নতুন নির্মিত রাস্তাটি এখন চলাচলের উপযোগী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকদের ভোগান্তি দূর করেছে|
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী সরকারী একে হাই স্কুল (আরএইচডি) থেকে গাজীপুর জিসি ভায়া তালুকদার হাট জরাজীর্ণ সড়কটির পুনঃ নির্মাণকাজের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তর (এলজিইডি) বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে গত ২৩ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে ১৬ কোটি ৫৬ লক্ষ ২২ হাজার ৫৬১ টাকা ব্যয়ে ৪টি গ্রুপে ভাগ করে দরপত্র আহবান করা হয়| ২০২৪ সালের ৫ মার্চ ওই সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ পায় মেসার্স বরেন্দ্র কনষ্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান| সড়ক নির্মাণে শুরুর দিকে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি সড়কটি নির্মাণ করতে খোড়াখুড়ি শুরু করে এবং দুই পাশ প্রশস্ত করতে সড়কের মাটি (বেট) কাটে| এরপর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার অজ্ঞাত কারনে সড়কটি ফেলে রেখে লাপাত্তা হয়ে যায়| এভাবে প্রায় এক বছরের উপড়ে ওই জরাজীর্ণ সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকে| বৃষ্টির সময় কাঁদা পানিতে সড়কটি একাকার হয়ে যায়| এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করা স্থানীয় বাসিন্দা ও দশ গ্রামের মানুষ| দিন দিন সড়কটি আরো বেহাল দশার পরিণিত হয়ে চলাচলের একদম অনুপযোগী হয়ে পড়ে| প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকে একের পর এক সড়ক দূর্ঘটনা| একাধিকবার অফিস থেকে তাগাদা দিয়েও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করানো সম্ভব হয়নি|
গত ২৩ জুন ২০২৪ ইংরেজী তারিখে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তর (এলজিইডি) বরগুনা কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন মোঃ মেহেদী হাসান খান| তিনি যোগদান করেই ওই সড়কটির দুর্দশার কথা শুনে দ্রুত সড়কের নির্মাণকাজ সমাপ্ত করতে উদ্যোগ নেন| তার একান্ত প্রচেষ্টায় তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে নিজ উদ্যোগে যোগাযোগ ও সময় বর্ধিত করে কাজটি দ্রুত সমাপ্ত করার ব্যবস্থা করেন| এরপর এক বছর ধরে বন্ধ থাকা জরাজীর্ন সড়কের কাজ ঠিকাদার পুরোদমে শুরু করে সম্প্রতি শেষ করেছেন| ওই জরাজীর্ণ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় উপজেলার দশ গ্রামের মানুষের মধ্যে ¯স্বস্তি ফিরে এসেছে| অবরুদ্ধ ও বেহাল দশার অবসান ঘটিয়ে নতুন নির্মিত রাস্তাটি এখন চলাচলের উপযোগী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকদের ভোগান্তি স্থায়ীভাবে দূর হয়েছে|
ওই সড়কের পাশে চাওড়া চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আহসান হাবিব বলেন, গত একটি বছর এই সড়ক দিয়ে আমাদের চলাচল করতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে| সম্প্রতি সড়কটির কাজ শেষ হওয়ায় আমিসহ এই এলাকার মানুষের মধ্যে ¯স্বস্তি ফিরে এসেছে|
পাতাকাটা গ্রামের শানু মিয়া বলেন, সড়কটির বেহাল দশার কারনে আমরা গত একটা বছর অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলাম| কাঁদা পানিতে সড়কটি ছিল একাকার| নতুন রাস্তা হওয়ায় আমরা ¯স্বস্তিতে আছি|
ব্যাটারী চালিত অটোরিকসার চালক রুহুল আমিন, আবুল বাশার ও কুদ্দুস মিয়া বলেন, সড়কটি ছিলো জরাজির্ন ও ভাঙ্গাচোরা| প্রতিনিয়ত ঘটতো দূর্ঘটনা| এখন নতুন সড়কটি নতুন করে নির্মাণ ও চলাচলের উপযোগী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকদের ভোগান্তি দূর করেছে|
ওই সড়ক নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা আমতলী উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, গত এক বছরের উপড়ে পড়ে থাকার ওই সড়কটির পুনঃ নির্মাণ কাজ স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তর (এলজিইডি) বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান খান স্যারের নির্দেশনায় দ্রুত করা সম্ভব হয়েছে|
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোঃ ইদ্রিস আলী বলেন, ওই সড়কটি দিয়ে আমতলী ও গলাচিপা উপজেলার মানুষজনসহ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের দশ গ্রামের মানুষ চলাচল করে| স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তর (এলজিইডি) বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান খান স্যারের নির্দেশনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই সড়কটির পুনঃ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে| এতে দশ গ্রামের মানুষের স্বস্তি স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি দূর হয়েছে|
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তর (এলজিইডি) বরগুনা কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান খান বলেন, আমি বরগুনা জেলায় যোগদান করার পরে ওই গুরুত্বপূর্ন সড়কটির দুর্দশা ও বেহাল দশার কথা জানতে পারি| আমি এটাও জানতে পারি যে, এক বছরের উপড়ে ঠিকাদার সড়কটি খোড়াখুড়ি করে ফেলে রেখে গেছেন| তখন আমি নিজ উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষের স্বস্তি স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি দূর করার জন্য খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির পুনঃ নির্মাণ কাজ শেষ করিয়েছি|
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।