স্টাফ রিপোর্টার:
ডিএমপি’র গুলশান ট্রাফিক বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শেলীকে কিশোরগঞ্জ জেলার নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এক বছরেরও বেশি সময় ঢাকা মহানগর পুলিশে দায়িত্ব পালন শেষে এটিই তার জেলা পর্যায়ে প্রথম এসপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ।
২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এই কর্মকর্তা কর্মজীবনের শুরু থেকেই পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নেতৃত্বগুণের জন্য পরিচিত। তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার গঙ্গামণ্ডল রাজ ইনস্টিটিউশন থেকে এসএসসি এবং সুজাত আলী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্সে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম শ্রেণি অর্জন করেন।
বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পর সারদা পুলিশ একাডেমিতে এক বছরব্যাপী কঠোর প্রশিক্ষণ এবং বিপিএটিসিতে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে তিনি পুলিশিং পেশায় যুক্ত হন। শিক্ষানবিশকাল শেষে চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া র্যাব, এপিবিএন এবং পিবিআইতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করেছেন।
ডিএমপির গুলশান ট্রাফিক বিভাগের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট নিরসন এবং আইন প্রয়োগে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। গুলশান, বনানী ও বারিধারার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলেছিলেন। কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একাধিকবার ‘শ্রেষ্ঠ ডিসি’ পুরস্কারে ভূষিত হন।
পেশাগত জীবনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানের দারফুর অঞ্চলের শাঙ্গিল তোবাইয়াতে অপারেশন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সফলতার জন্য সম্মাননা লাভ করেন।
মিজানুর রহমান শেলী কেবল একজন দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা নন, তিনি একজন সুপরিচিত লেখকও। ‘রহমান শেলী’ ছদ্মনামে সাহিত্যচর্চা করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। ১৯৯২ সালে কবিতা দিয়ে লেখালেখির শুরু হলেও ২০০২ সালে তার প্রথম উপন্যাস ‘অবন্তীর নীল শাড়ী’ প্রকাশিত হয়। এরপর রোমান্টিক, ক্রাইম ফিকশন, ডিটেকটিভ, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নানা ধারার মোট ৩১টি বই প্রকাশ করেছেন।
সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৯ সালে বন্ধুসভা প্রথম আলো শ্রেষ্ঠ লেখক পুরস্কার, ২০০৭ সালে পুলিশ একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।
১৯৭০-এর দশকে জন্মগ্রহণকারী এই কর্মকর্তা কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কংশনগর ভূঁইয়া বাড়ির সন্তান। ব্যক্তিজীবনে তিনি কর্মঠ, আদর্শবাদী ও মানবিক গুণাবলীর জন্য সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে সমাদৃত।
নতুন দায়িত্বে কিশোরগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনসেবা নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
প্রকাশকও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ.বার্তা সম্পাদক:মোঃ জাকির হোসেন,IT ইনচার্জ: আসমা-উল-হুসনা।