প্রতিশ্রুতি আজও কাগজেই, জনগণের ঘামেই বাঁচছে রাজেন্দ্র বৌদ্ধ সড়ক
প্রতিশ্রুতি আজও কাগজেই, জনগণের ঘামেই বাঁচছে রাজেন্দ্র বৌদ্ধ সড়ক

সবীর আহমেদ ফোরকান, পরশুরাম, ফেনী প্রতিনিধিঃ
ভোটের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রতিশ্রুতি ছিল ঝরঝরে – “ক্ষমতায় গেলে সবার আগে এই সড়কের কাজ ধরবো”। পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে। প্রতিশ্রুতি আজও কাগজেই রয়ে গেছে। আর বাস্তবে? রাজেন্দ্র বৌদ্ধ সড়ক ডুবে আছে খানাখন্দ আর কাদায়। জনদুর্ভোগের শেষ নেই।
শেষে আর সহ্য করতে না পেরে এলাকাবাসী নিজেরাই কোদাল-শাবল হাতে নেমেছেন। নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে কাদামাখা রাস্তা ভরাট করছেন তারা। কারণ রাস্তা না হলে স্কুল বন্ধ, হাসপাতাল বন্ধ, জীবন বন্ধ।

বিএনপির ফেনী-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী মুন্সি রফিকুল আলম মজনু নির্বাচনী প্রচারণায় স্পষ্ট বলেছিলেন, পরশুরামের উন্নয়নের অগ্রাধিকার তালিকায় সবার উপরে থাকবে রাজেন্দ্র বৌদ্ধ সড়ক। কিন্তু প্রতিশ্রুতির পর পাঁচ মাস কেটে গেলেও এক ব্যাগ সিমেন্টও পড়েনি রাস্তায়।
ফলে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান কাদা। শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী – সবাইকে এই মরণফাঁদ পেরিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে।
অবশেষে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা চাঁদা তুলে রাস্তার বেহাল অংশগুলো সংস্কার শুরু করেছেন। ট্রাক থেকে মাটি নামিয়ে, ভাঙা ইট ফেলে কোনোমতে চলাচল উপযোগী রাখার চেষ্টা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, খেটে খাওয়া মানুষগুলো কাঁধে কোদাল নিয়ে নিজেদের রাস্তা নিজেরাই বাঁচাচ্ছেন।
এটা নতুন না। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সড়কটি বিধ্বস্ত হলে তখনও সরকারি সাহায্য আসেনি। এলাকাবাসী প্রায় ১ লাখ টাকা চাঁদা তুলে একটি কালভার্ট নির্মাণ করেন। ৫ হাজার ইট কিনে ভাঙা অংশে সলিং বসান।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “নেতারা আসেন, ছবি তোলেন, ওয়াদা করেন। ভোট শেষ, সব ভুলে যান। আমাদের কষ্টটা কি তারা বোঝেন?”
জনগণের একটাই দাবি – প্রতিশ্রুতি না, কাজ চাই। দ্রুত রাজেন্দ্র বৌদ্ধ সড়কের স্থায়ী সংস্কার করে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























মন্তব্য: