পাটগ্রামে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, ঘটনাস্থল নিয়েই দুই বক্তব্য
পাটগ্রামে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, ঘটনাস্থল নিয়েই দুই বক্তব্য
দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও জমি বিরোধের জেরে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ; সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি
সাঈদ হোসেন, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের সরকারেরহাট এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিবেশীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে শ্লীলতাহানি ও মারধরের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। একই সঙ্গে ঘটনার স্থান নিয়েও পাওয়া গেছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে রশিদুল ইসলাম ও প্রতিবেশীদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা হয়। তবে কিছু সময় পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে রশিদুল ইসলামের মেয়ে রুজিনা আক্তারকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর নুরুজ্জামান, শাহীন, রাজীব ও লতিবরের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও মারধরের চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়।
তবে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের দাবি, তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ঘটনার স্থান। রুজিনা আক্তারের বক্তব্য অনুযায়ী, মারামারির ঘটনা হয়েছে রশিদুল ইসলামের বাড়িতে। কিন্তু রশিদুল ইসলামের বাড়িতে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা দাবি করেন, মারামারি হয়েছে বাড়ির বাইরের রাস্তায়।
একই ঘটনার স্থান নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের দাবি, রশিদুল ইসলামের বাড়ি ও বাড়ির গেটে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, যদি বাড়িতে কিংবা বাড়ির সামনে মারামারির ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে না কেন? তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফুটেজ যাচাই করলে ঘটনার প্রকৃত স্থান, উপস্থিত ব্যক্তি এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
অভিযোগকারী রশিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের সদস্যরা মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন।
এদিকে অভিযুক্ত পক্ষের আরও দাবি, ঘটনার সময় নুরুজ্জামান ও রেহানা বেগম লালমনিরহাট আদালতে একটি মামলার শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতে তাঁদের উপস্থিতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথির মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব বলে জানান তাঁরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। পারিবারিক বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও গ্রাম্য সালিশকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ হয়েছে। এর সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধও রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, নুরুজ্জামান তাঁর বাবার অংশ হিসেবে প্রায় ১৬ শতক জমি বুঝে নেওয়ার পর থেকেই বিরোধ আরও বেড়েছে। এরপর বিভিন্ন সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঘটনা ঘটছে বলে জানান তাঁরা।
তবে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, পূর্বের মামলা এবং সালিশের বিষয়গুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এখন মূল প্রশ্ন—৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল? মারামারি যদি হয়ে থাকে, তা বাড়ির ভেতরে নাকি রাস্তায়? ঘটনার সময় কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন? বাড়ি ও গেটে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় কি ঘটনার কোনো দৃশ্য ধারণ হয়েছে? আর অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিরা যদি ওই সময় আদালতে উপস্থিত থেকে থাকেন, তার প্রমাণ কী বলে?
স্থানীয়দের মতে, এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সিসিটিভি ফুটেজ, হাসপাতালের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, আদালতের নথি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য একসঙ্গে যাচাই করা জরুরি।
অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে এখন প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত। কারণ, বক্তব্যের চেয়ে প্রমাণই পারে স্পষ্ট করতে—সেদিন সরকারেরহাটের ওই এলাকায় আসলে কী ঘটেছিল।
সর্বশেষ
- প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
- আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
Developed by bditsupport



