নকলমুক্ত পরিবেশে চিতলমারীতে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫
নকলমুক্ত পরিবেশে চিতলমারীতে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫

চিতলমারী, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫।
‘নকলকে না বলি, দিন বদলে দৃঢ় প্রত্যয়ে দেশকে গড়ে তুলি’—এই প্রেরণাদায়ী স্লোগানকে সামনে রেখে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় শুরু হয়েছে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫।
উপজেলার চিতলমারী সরকারি এস.এম. মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ বছর চিতলমারী উপজেলার মোট ৩২টি বিদ্যালয় থেকে ৩৭১ জন পরীক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১৩৪ জন এবং ছাত্রী ২৩৭ জন, যা মেয়েদের শিক্ষায় আগ্রহ ও অগ্রগতির একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) পরীক্ষার তৃতীয় দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আমাদের প্রতিনিধি কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে কর্তব্যরত কেন্দ্র সচিব ও চিতলমারী সরকারি এস.এম. মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব তাপশ কুমার খান জানান, “পরীক্ষা সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল, শান্ত ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিঘ্ন ঘটেনি।”
তিনি আরও বলেন, চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যার ফলে গতদিন ও আজ মিলিয়ে মোট ২২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এর মধ্যে ছেলে ৬ জন এবং মেয়ে ১৬ জন। তবে শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সময়মতো কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছে, যা তাদের পড়াশোনার প্রতি দৃঢ় মনোভাবের প্রতিফলন।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, পরীক্ষাকেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ ছিল পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও শিক্ষাবান্ধব। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক, দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল। শীতজনিত কারণে শিক্ষার্থীদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। অভিভাবকরাও সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করছেন।
অভিভাবকরা জানান, এ ধরনের সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তা ও স্বীকৃতি লাভ করবে, যা তাদের শিক্ষাজীবনে আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা কেবল একটি প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, সততা ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম। এই বয়সেই নকলবিরোধী চেতনা ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হলে ভবিষ্যতে তারা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
সচেতন মহলের অভিমত, শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড। আর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বৃত্তি পরীক্ষার মতো উদ্যোগ মেধাবী ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখার সাহস জোগায়। আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে আলোকিত সমাজ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নির্মাতা হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
























মন্তব্য: