নওগাঁয় ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে
নওগাঁয় ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে
নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
ডিভোর্সের পরও সাবেক স্বামীর হয়রানি, একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব ভেঙে দেওয়ার দাবি তরুণীর।
রাণীনগর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে লাইন শ্রমিক হিসেবে কর্মরত অভিযুক্ত, জিএম বরাবর অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে এক তরুণীকে ব্ল্যাকমেইল, সামাজিকভাবে হেয় করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একের পর এক বিয়ের প্রস্তাবে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে। ডিভোর্সের প্রায় তিন মাস পরও বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোছা. জান্নাতুন ফেরদৌস। এ ঘটনায় নিজের সামাজিক মর্যাদা, পারিবারিক জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী মোছা. জান্নাতুন ফেরদৌস আত্রাই উপজেলার ভরতেতুলিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। অভিযোগের তীর মো. ইনাম মোরসালিন (৩০)-এর দিকে। তিনি নওগাঁ সদর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মৃত বেনজির আহমেদ এবং মাতা সাবিনা ইয়াছমিন। ডাকঘর—চকআতিথা, থানা ও জেলা—নওগাঁ।
ডিভোর্সের পর নতুন করে হয়রানির অভিযোগ
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মো. ইনাম মোরসালিনের সঙ্গে তার প্রায় তিন মাস আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।
জান্নাতুন ফেরদৌসের দাবি, সম্প্রতি তার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালানো, সামাজিকভাবে হেয় করা এবং তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তার অভিযোগ, ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। এতে তিনি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি।
দুটি বিয়ের প্রস্তাব ভেঙে দেওয়ার দাবি
ভুক্তভোগী জান্নাতুন ফেরদৌসের দাবি, ডিভোর্সের পর তার জন্য দুটি বিয়ের প্রস্তাব আসে এবং উভয় ক্ষেত্রেই বিয়ের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই অভিযুক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ধরনের কথা বলায় শেষ পর্যন্ত বিয়ের প্রস্তাবগুলো ভেঙে যায়।
বর্তমানে নতুন করে আরেকটি বিয়ের প্রস্তাব ঠিক হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এবারও অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ফোন করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এতে নতুন করে ঠিক হওয়া বিয়েটিও ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তার।
ভুক্তভোগী বলেন, “আমার সঙ্গে তার প্রায় তিন মাস আগে ডিভোর্স হয়েছে। এরপরও আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমার নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। এর আগে আমার দুটি বিয়ে ঠিক হয়েছিল, সেগুলোও ভেঙে গেছে। এখন আবার নতুন করে বিয়ে ঠিক হয়েছে। সেখানেও ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার চাই।”
রাণীনগর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে লাইন শ্রমিক হিসেবে কর্মরত থাকার দাবি
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানির ঘটনায় অভিযুক্ত মো. ইনাম মোরসালিন বর্তমানে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে লাইন শ্রমিক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
জান্নাতুন ফেরদৌসের দাবি, কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্নভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং তাকে হয়রানি করছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
জিএম বরাবর লিখিত অভিযোগ, প্রতিকার না পাওয়ার দাবি
ভুক্তভোগী জানান, ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ব্ল্যাকমেইল, হুমকি এবং হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ফলাফল বা কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন তিনি।
তার ভাষ্য, “আমি এ বিষয়ে নওগাঁ জিএম বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কোনো রেজাল্ট পাইনি। আমি চাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টের প্রকৃত পরিচালনাকারী শনাক্তের দাবি
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে খোলা ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি কে পরিচালনা করছে, তা প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করা জরুরি। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তাকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হলে এর নেতিবাচক প্রভাব তার পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের ওপরও পড়ছে।
তিনি বলেন, ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টের প্রকৃত পরিচালনাকারীকে শনাক্ত করে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান তরুণী
ভুক্তভোগী জান্নাতুন ফেরদৌস বলেন, তিনি কোনো ধরনের বিরোধ বা সংঘাতে যেতে চান না। তিনি শুধু হয়রানি, ভয়ভীতি ও সামাজিকভাবে হেয় করার ঘটনা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান।
তার দাবি, ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, ব্ল্যাকমেইল, ফোনে হুমকি এবং বিয়ের প্রস্তাবে বাধা দেওয়ার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি রাণীনগর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে কর্মরত থাকায় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সর্বশেষ
- প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
- আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
Developed by bditsupport



