চিতলমারীতে প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা
চিতলমারীতে প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

চিতলমারী প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের চিতলমারী থানা পুলিশ ঝুমা গাইন (২২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তার স্বামীর বাড়ি চিতলমারী উপজেলার শিবপুর মধ্যপাড়া গ্রাম থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মৃত ঝুমা গাইন সিঙ্গাপুরপ্রবাসী সুব্রত মণ্ডলের স্ত্রী ও টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের অনার্স (বাংলা) শেষ বর্ষের ছাত্রী এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নবুখালী গ্রামের দিলিপ গাইনের মেয়ে। সুব্রত মণ্ডল ও ঝুমা গাইন দম্পতির প্রজ্ঞা মণ্ডল (৫) নামের একটি মেয়ে রয়েছে।
ঝুমার বাবা দিলিপ গাইন (৫০) বলেন, আমার তিন ছেলে-মেয়ে—বড় ছেলে দিপংকর গাইন (২৭), মেজো ঝুমা গাইন (২২) এবং ছোট মেয়ে। ঝুমা আমার অতি আদরের মেয়ে ছিল। ছয় বছর আগে চিতলমারীর শিবপুর মধ্যপাড়ার মৃত কৃপা সিন্ধু মণ্ডলের ছেলে সুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে তার বিয়ে দিই। তিনি আরও বলেন, ঝুমার ভাসুর সুকান্ত গাইন সব ঘটনার মূল নায়ক। আমার জামাই সুব্রত মণ্ডল বিদেশে থাকে, সেই সুযোগে সুকান্ত জমিজমা নিয়ে নানাবিধ ঝামেলা শুরু করে এবং এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই আমার মেয়েকে প্রচুর মানসিক নির্যাতন করত। এর ফলেই আজ আমাকে মেয়ের লাশ দেখতে হলো।
এদিকে ঝুমার বড় ভাই দিপংকর গাইন বলেন, আমার বোনকে এখানে বিয়ে দিয়েছি ছয় বছর হলো। আমার বোনের পাঁচ বছরের একটি মেয়ে আছে। সাংসারিক জীবনে প্রায়ই তাদের ঝামেলা হতো। দুই মাস আগে ঝামেলা হওয়ায় ঝুমা বাবার বাড়িতে চলে আসে। ঝুমার মা-বাবা ও আমি তাকে বুঝিয়ে আবার শ্বশুরবাড়ি পাঠাই। কিন্তু কিছুদিন আগে আবারও ঝামেলা হয়। তখন আমি এসে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাই। চার-পাঁচ দিন সেখানে থাকার পর আবার বুঝিয়ে তাকে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দিই।
ঝুমা এখানে আসার পরও ছোটখাটো ঝামেলা চলতে থাকে। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমি মোবাইলে আমার বোনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেছি। তখন সে তেমন কোনো ঝামেলা বা সমস্যার কথা বলেনি, আমাদের কাছেও কিছু অস্বাভাবিক মনে হয়নি। হঠাৎ আজ সকাল সাতটা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে পাশের বাড়ির একটি ছেলে ফোন দিয়ে জানায়, ঝুমার অবস্থা খুব খারাপ—সে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর শুনে আমরা দ্রুত চিতলমারীর শিবপুর মধ্যপাড়া যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, ঝুমা গলায় ওড়না দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছে এবং তার পা মাটিতে লেগে আছে।
দিপংকর আরও বলেন, আমার বোন কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারে না। স্বাভাবিকভাবে দেখলে কারও কাছেই মনে হবে না এটি আত্মহত্যা। রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে এমন কিছু হয়েছে, যার কারণে সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে অথবা তাকে মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবেদক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং অভিযুক্ত সুকান্ত মণ্ডল ও তার স্ত্রীর বক্তব্য নিতে চান। কিন্তু তারা কেউই ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি বা কোনো তথ্য সরবরাহ করেননি। উল্টো সুকান্ত মণ্ডল উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা কেন এসেছেন? সকালে তো আমার মামাসহ একজন এসে সব তথ্য নিয়ে গেছে।”
এ বিষয়ে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম শাহাদত বলেন, “ঘটনা শোনা মাত্রই আমি সেখানে পুলিশ পাঠাই এবং মরদেহ থানায় নিয়ে আসি। সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আপাতত একটি ইউডি মামলা দায়ের হয়েছে, যার নম্বর ২২, তারিখ ১৩-০৮-২০২৫ খ্রিঃ।”
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
























মন্তব্য: