এই বর্ষায় নতুন রূপে জেগে উঠেছে আলীকদমের রহস্যময় ঝর্ণাগুলো
এই বর্ষায় নতুন রূপে জেগে উঠেছে আলীকদমের রহস্যময় ঝর্ণাগুলো
নিজস্ব প্রতিবেদক, আলীকদম (বান্দরবান):
বর্ষার আগমনে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলার দুর্গম-গিরি পথের পাহাড়ি বর্ষার রাণি ঝর্ণাগুলো। সারা
বছর নীরব-নিভৃত থাকা এসব ঝর্ণা এখন বর্ষার টানা বৃষ্টিতে পরিণত হয়েছে সজীব, প্রমত্ত এবং বিষ্ময়কর জলধারায়। বিশেষ করে
রহস্যঘেরা পালংক্ষিয়াং ঝর্ণা, থাংকোয়াইন ঝর্ণা, লাদ মেরাগ ঝর্ণা, ক্রাতং ঝর্ণা (স্টেপ-১,২,৩), জামরুং র্ঝণা (স্টেপ-১,২,৩), সাইম্প্রা র্ঝণা,
দামতুয়া র্ঝণা, তুইঅং ঝর্ণা, রূপমুহুরী ঝর্ণা এবং শিলবুনিয়া ঝর্ণা এখন যেন প্রকৃতিপ্রেমী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের কাছে এক পুরাতন
গৃহে নতুন স্বর্গে রূপ নিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্ষার পানিতে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে মাতামুহুরী নদী এবং জনপ্রিয় তৈনখাল। খর¯্রােতা এই জলধারা বেয়ে পাহাড়ি
ঝিরিগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে অপূর্ব সৌন্দর্য। পাহাড়ের বুক চিরে (পাহাড়ের অশ্রæ) নেমে আসা সাদা ফেনার জলরাশি, চারপাশের সবুজ অরণ্য
আর মেঘের ছোঁয়ায় পুরো এলাকা যেন এক স্বপ্নিল রূপ স্বর্গ রাজ্যে ধারণ করেছে।
পালংক্ষিয়াং র্ঝণার পাশের স্থানীয় বাসিন্দা মিলন তংচংগ্যা বলেন, বর্ষাকালই আলীকদমের ঝর্ণাগুলো দেখার উপযুক্ত সময়। এই সময়
ঝর্ণাগুলোর আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। ধুয়ে-মুছে যায় পাহাড়ের সারাবছরের জমে থাকা অবর্জনা, তবে একই সঙ্গে বেড়ে যায় দুর্গমতার
মাত্রাও এবং ভয়ংক্ষর পরিবেশও। পিচ্ছিল পথ, পাহাড় ধস, পাহাড়ি পথ পরিবর্তন, পাহাড়ে জমে থাকা ময়লার চাপ, প্রবল স্রোত আর
পাহাড়ি ঢল ভ্রমণকে করে তোলে আরও চ্যালেঞ্জিং এবং অ্যাডভেঞ্চার।
অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ও ভ্রমণ প্রিয় পর্যটকদের ভিড়ও বাড়তে শুরু করেছে ইতোমধ্যে। সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছে স্থানীয় গাইড সংগঠন
“আলীকদম ট্যুর গাইড এসোসিয়েশন” এর গাইডদের। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রমণপিপাসুরা এবং বিভিন্ন
সেক্টরের ভ্রমন প্রিয়রা ছুটে আসছেন এই অজানা সৌন্দর্যের টানে। কেউ নদী পথে, কেউ পাহাড়ী অ্যাডভেঞ্চার রাস্তা ঝিরিপথ ধরে হাঁটছেন,
আর কেউ পুরো রাস্তা হেঁটেই যাচ্ছে নদীর তীর ধরে এইভাবেই পৌঁছে যাচ্ছেন দুর্গম ঝর্ণার পাদদেশে।
তবে পর্যটন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সচেতনতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। স্থানীয় প্রফেশনাল প্রশিক্ষিত গাইড মোঃ নুরুল ইসলাম (রাজু) বলেন,
“বর্ষায় ঝর্ণাগুলো যেমন অরন্যের বুক চিরে সুন্দর হয়, তেমনি সর্তক না হলে ঝুঁকিপূর্ণও হয়ে ওঠে এমনকি মাঝে মাঝে অনেক পাহাড়ি রাস্তা
বাঁক পরিবর্তন হয়ে যায় বর্ষায় পাহাড় ধস, নদী ভাঙ্গন এবং বন-জঙ্গলে। তাই গাইড ছাড়া যাওয়া অসম্ভব এবং ঝুকিপূর্ণ তাই প্রশাসন গাইড
সার্ভিস চালু রেখেছে পর্যটকদের স্বার্থে এবং সহযোগিতায়। পাশাপাশি পর্যটকদের অনুরোধ করেন, পাহাড়ে ঘুরতে এসে পাহাড়কে যেন তারা
প্লাস্টিক বা বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নষ্ট না করেন।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আলম বলেন, আলীকদমে পর্যটন স্পটগুলোর জন্য প্রশাসনিকভাবে যাতায়াত এবং পর্যটকদের নিরাপদে
ভ্রমণের জন্য সার্বিক সহযোগিতা অব্যহত রয়েছে এমনকি আলীকদম ভ্রমণের জন্য পর্যটক সেবা কেন্দ্র এবং পর্যটক সেবা মোবাইল
সপ্টওয়্যার চালু করেছি। এবং ভ্রমণে স¤পূর্ণ নিরাপদের জন্য স্থানীয় গাইডদের সহযোগিতা নেওয়ার কথা বলেন।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রেসক্লাব সভাপতি এবং ট্যুর গাইড এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং
পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে আলীকদমের এই রহস্যময় ঝর্ণাগুলো এবং পর্যটন স্পটগুলো দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র
হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এবং বান্দরবানের আলীকদমও পর্যটনের জন্য উন্মুক্ত ঘোষনা করা সম্ভব।
সর্বশেষ
- প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
- আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
Developed by bditsupport

